কবিতা
ফিরিয়ে দাও
দোয়েলকে প্রশ্ন করলাম, দোয়েল তুমি আর ডাকো না কেন? উত্তর পেলাম কে শুনবে আমার ডাক,সবাই তো কানে হেডফোন রেখেছে গুঁজে!
মাছরাঙাকে শুধালাম এখন কোথায় থাকছো তুমি? উত্তর পেলাম সভ্যতার অগ্রগতিতে আমার ঘরও আজ পাকা,গাছের কোটরে থাকতে হয় না আর, থাকি এখন কংক্রিটের কোটরে।
আর আমরা???? পরিবেশের ভারসাম্যের কথা যতই মুখে বলি,কাজে অ-কাজে কি করি, ছবি তুলে ঢোল পেটায়, জানাই সবাইকে।দুটো পার্থে নিয়মের গাছ ছিঁড়ে,একটু পরিবেশ পরিস্কার করে, রাস্তার ধারে একটা গাছের চারা লাগিয়ে বড়াই করি আমরা।আর তারপর ফিরেও তাকায় না সেই চারাগাছের দিকে।
আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের নদী, নালা, পুকুর, বড়-বড় বৃক্ষ।দীঘির নির্মল জলে স্নান হতে চলেছে অতীত।কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়।
নদী হারাচ্ছে তার গতিপথ, কোথাও যাচ্ছে মজে আবার কোথাও বা বালি তোলার গহ্বর।
আবর্জনায় ভর্তি।
সারি সারি নদীর পাড়ে যে গাছ গুলো দাঁড়িয়ে থাকে সেগুলোও কাটা পড়ছে সভ্যতার অগ্রগতির নামে।পূর্বপুরুষের হাতে লাগানো বড় বড় বৃক্ষ গুলো এখন তাদের মতোই অতীত, পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে আপনার নষ্ট করছি, ধ্বংস করেছি স্মৃতি।
শীতল হাওয়া পায়না দক্ষিণের জানালা খুললে, পায় শুধু এঁদো ডোবার পঁচা জলের গন্ধ। বড় দিঘি, পুকুর আজ হয়েছে এঁদো ডোবা।বুজিয়ে কিংবা ছোট করে তৈরি করছি বড় বড় পাকা বাড়ি। আমাদের প্রতিযোগিতা আজ বাড়ি,গাড়ি আর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে।
নদীর কুলুকুলু শব্দ ,কোনো এক গ্রাম্য বালকের জাল নিয়ে মাছ ধরা, শঙ্খচিলের তীক্ষ্ণ শিস্, চড়ুই পাখির কিচিরমিচির, চাতকের জল চাওয়া,বাবুইয়ের শিল্প শৈলী, সবকিছু সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই আমরা,ফিরিয়ে দাও সবকিছু, যন্ত্রমানব নয় প্রকৃত মানুষের মতো বাঁচতে চাই।সকলকে নিয়ে থাকতে চায়, তাই ফিরিয়ে দাও,বাঁচতে দাও।
Comments
Post a Comment