চাষীরা শ্রমের যথাযথ মর্যাদা পাক, হারিয়ে যাক 'আশায় বাঁচে চাষা' প্রবাদবাক্য



দেবাশিস পাল, নানুর:কৃষির সাথে ভারতবর্ষের ঐকান্তিক যোগ রয়েছে বহু পূর্ব থেকেই । হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের  প্রধান নারী চরিত্র হল সীতা। কাহিনী অনুযায়ী জনক রাজা তাঁর জমিতে ফসল ফলানোর জন্য লাঙ্গল দিতে শুরু করলে তার ফালে উঠে আসে সীতা,ভূদেবী পৃথিবীর কন্যা সীতা,যার অর্থ হলরেখা।আবার মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের অগ্রজ বলরামকেও আমরা দেখতে পায় লাঙ্গলধারন করতে।তাই ভারতবর্ষে  কৃষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেই প্রাচীন কাল থেকেই। ভারতবর্ষের সাহিত্য সংস্কৃতি কৃষক সম্প্রদায়কে সভ্যতার পিলসুজ বলেই মনে করে। কঠোর পরিশ্রমের পর চাষিরা পৃথিবীর মাটিতে ফসল ফলায় যার সুফল ভোগ করে সমগ্র মানব জাতি। তবুও কোথাও যেন সেই চাষিদের প্রতি সহানুভূতি তো দূরের কথা..তাদের প্রতি অবহেলাটাই বেশি লক্ষ্য করা যায়।তবে অবহেলা যত‌ই বৃদ্ধি পাক না কেন কৃষক সম্প্রদায় কিন্তু নিজেদের কাজ করে চলেছেন একাগ্রতার সঙ্গে। কিন্তু দিনের পর দিন তারা সমগ্র সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করতে নিরলস পরিশ্রম করে গেলেও,নিজের পরিবারের সমৃদ্ধির জন্য শুধু মাত্র আশার উপর ভরসা করেই থাকে,আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বহুকাল ধরেই।তবে চিরটাকাল কি তারা আশায় আশায় থেকেই যাবে, সবথেকে পরিশ্রম করা মানুষগুলো কি কোনদিন যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে না,পাবে না ফসলের ন্যায্য দাম।আমরা কি সকলে মিলে ভারতবর্ষের মেরুদণ্ডটিকে সোজা রেখে বলতে পারি না,হে কৃষক আমরা তোমাদের পাশে আছি,তুমি ফসল ফলাও,আমরা তোমাদের শ্রমের মর্যাদা দেবই।আর তাহলেই হয়তো 'আশায় বাঁচে চাষা' প্রচলিত এই ব্যাক্যটির ব্যবহার‌ও শেষ হয়ে যাবে।


Comments