গোপাল চট্টপাধ্যায় স্মরণে.....
দেবাশিস পাল:'কাজকে ঈশ্বরের মতো ভালোবাসিস' 'খুব ভালো কাজ হচ্ছে এগিয়ে যা,পাশে আছি' 'জীবনের চ্যালেঞ্জ হাসি দিয়ে জয় করে নিতে হয়' 'খুব ভালো লিখছো' .....এই বাক্যগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে যে কতটা প্রেরণা জুগিয়েছে তা হয়তো সঠিকভাবে বলতে পারবেন তারাই,যাদেরকে লক্ষ্য করে এই কথাগুলো তিনি বলেছিলেন।অনুজপ্রতিম সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করতে এইরকম শত শত কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছিলেন বীরভূম সাংবাদিক মহলের বটবৃক্ষ গোপাল চট্টোপাধ্যায়,আর আজ সেই কথাগুলোই যেন তাঁকে বীরভূমের অন্যতম কিংবদন্তিতে পরিণত করে তুলেছে। হ্যাঁ তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই বটবৃক্ষ। তালগাছের মতো একা একা গগনচুম্বী না হয়ে মহীরুহের মতো শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে বসার জায়গা করে দিয়েছিলেন অনেককে, আশ্বাস দিতেন প্রত্যেককে,আর তাঁর এই বরাভয়ই তো ছিল অনেকের চলার পথের অন্যতম পাথেয়, যার উপর ভর করে পথ চলা যেত নিশ্চিন্তে।
গোপাল চট্টোপাধ্যায় যেন নিজেই ছিলেন এক প্রতিষ্ঠান।কাজকে ভালোবাসতে শেখার অন্যতম উদাহরণ।যে ব্যাধির নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ হয়ে যায় অর্ধমৃত, তেমনি এক মারাত্মক ব্যাধিকে সঙ্গী করে বাংলা তথা ভারতের অন্যতম সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে গেছেন দিনের পর দিন।কখনো কোন অভাব বুঝতে দেননি বীরভূমে কাজ করা তার অধস্তন সংবাদ প্রতিনিধিদের। বিভিন্ন সময় গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে দাপটের সঙ্গে খবর সংগ্রহ করাটা যেন অভ্যাসে পরিণত করে তুলেছিলেন,আর তাই অসংখ্য গুণের অধিকারী এই মানুষটি যেন সমগ্র জেলার সব মহলেই হয়ে উঠেছিলেন সমান জনপ্রিয়। মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়ার ফলে একটা বড়োসড়ো শূণ্যস্থানের সৃষ্টি করলো বীরভূম জেলার সংবাদ-সংস্কৃতি মহলে,যা হয়তো তাঁর উত্তরসূরিদের পক্ষে হয়তো সহজে পূরণ করা সম্ভব হবে না।
-------------------------------------------
Debashis Pal, Editor Matir, Khabor
Comments
Post a Comment