হারিং যেচে(হাবুগান)




বলি শক্ত করে ধররে দাদা 

হালটো শক্ত করে ধর,

হারিং যেচে সবকিছু

 আপন হচে পর।

নাঙলা রসা,হালের বলদ 

জন লাঙল যেচে চলে

ট্রাকটরে চাষ,

চালের বাতা হারিং যেয়ে

পাকাঘরে বাস।


বলি দুনিটো গেল জং পড়ে 

 ঘুন ধরলো একায়

যাঁতালটো আজ পড়েই আচে

মাঁদার জল শুকোয়।

কেদে কোদাল হারিং যেচে

পেচে পেলাসটিক

ধানের বোঝা মাতায় লিলে

চুল থাকেনা ঠিক।

আড়ার মাচ তো ভুলেই গেলাম

প্যাঙাস খেয়েই শ্যাষ

চ্যাঙ ছিঙুরি পুঁটি ঢাঁড়কে

খায়নাই কত মাস।


বলি সেই ডাক আর শোনাই যায়না

উলো আমার ধান ফুলো

তলাই চালুন হারিং গেলো

ফ্যান খেয়েচে কুলো।

সেদিন গুলান বেশ ছিলোরে

তালের পিটে আর বড়া

ফাইবোরের চিয়ার গুলান

হাঁটিয়ে দিলে মোড়া।

ভোরের বেলায় চাল লারার

ধূম কতো ছিল,

মাটির খোলা,বাগড়ার জ্বাল

হারিং সব‌ই গেল।


বলি কীসব মেশিং ঘরে এলো

গেল শিল আর নোড়া

প্যাকেট প্যাকেট মশলাগুলান

পেটের রোগের গোড়া।

বিয়া হলিন ঘোড়ার নাচ

আমোদ হতো বেশ

পালকি কোথায় চলিং গেলো

হলো মারুতি গাড়ির রেস।

হেরিকেল আর লম্প গেল

এলো ইলেকট্রিকে আলা

 চাল ভরার ডেরাম এলো

হারিং গেলো জ্বালা।

হুঁকো তামুক খেতো সবাই

বটুকখানায় বসে

এখনকার সব ছেলেগুলান

খেতে ধরেছে শিশে।


আখ তেওরা বুট কলাই

হয় নাকো আর চাষ,

যখন তাকাই মাঠের পানে

দেখি ধান‌ই বারোমাস।

ফাওড়া কোদাল পেচে লিয়ে

পুকুর কাটতাম বেশ,

মাটি কাটার মেশিং এসে

তাও করলে শেষ।

ঢ্যাংগুলি নুন তাড়াতাড়ি

খেলে না ছেলে পিলে

মোবাইলেই ব‌উ-ঝিরা

চার ছক্কা ফেলে‌।


ঘসি দেওয়া ভুলে গেয়ে

রাঁদচে সবাই গেসে

আসন পিঁড়ে তুলে রেকে

খেচে চিয়ারে বসে।

স‌ইসে তেলে ভেজাল

আর আলু-পটলে বিষ

হাবুগান গেয়ে গেলাম

আমি দেবাশিস।

দুঃখের কথা বলতে গেলে

হবে নাকো শেষ

এখন শুদু মনে হয়

তখন ছিলেম বেশ।

Comments

Popular Posts