দীঘা ও তার কাছেপিঠের সমুদ্র সৈকতে ক'দিন
কামারপুকুর জয়রামবাটি ঘুরে দেখার পর পুনরায় যাত্রা শুরু করলাম, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি মহাকুমার অন্তর্গত দীঘা সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। সেদিন উইকিপিডিয়ায় দিঘার ইতিহাস পড়তে গিয়ে দেখছিলাম এর প্রকৃত নাম ছিল বীরকুল এবং এটি অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে আবিষ্কৃত হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস একে প্রাচ্যের ব্রাইটন বলেছেন। ১৯২৩ খ্রীঃ জন ফ্রাঙ্ক স্মিথ এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানে বসবাস শুরু করেন এবং বলা যায় তিনিই সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরেন স্থানটিকে। যাই হোক দীঘা পৌঁছাতে সময় লাগলো অনেকটা, প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল নিউ দীঘায় পৌঁছাতে।হোটেল এবং খাবার দায়িত্বে থাকা শ্যামলদা নির্দিষ্ট হোটেলের সামনে নিয়ে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করালেন,আমরা যে-যার রুম দখল করে নিলাম। আমি সুকান্ত এবং সেন্টু রুম নাম্বার ২০৬ এ।বেশ ক্লান্ত লাগছিল দীর্ঘ বাস জার্নির পর, তাই রুম থেকে আর বের হলাম না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর খাবারের ডাক পড়লো শ্যামলদার অপূর্ব রান্না তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর যে যার রুমে গিয়ে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলাম।
নিউ দীঘার ভোরের সৈকতে:-
সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে ভোরবেলা সকলে মিলে পৌঁছে গেলাম নিউ দীঘার সমুদ্র সৈকতে।সমুদ্রের সফেন ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল তীরে,আমরা গিয়ে বসলাম কংক্রিটের পাঁচিলের উপর আকাশ হালকা মেঘাচ্ছন্ন সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য সেরকম হলো না, সূর্যদেব লুকোচুরি খেলতে শুরু করলেন আমাদের সাথে। কিছুক্ষণ পরে একটি ক্যারাটে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে শুরু করল তাদের কসরত সমুদ্রের হালকা হাওয়ায় মনটা ফুরফুরে লাগছিল, আর কচিকাঁচাদের ক্যারাটে-জুডোর অনুশীলন দেখতে মন্দ লাগছিলো না। অদূরে ঝাউবনের গাছগুলো আন্দোলিত করছে তাদের মস্তক।দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এর তত্ত্বাবধানে নিউ দীঘা কে সাজিয়ে তোলা হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে, বিনোদনের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। সমুদ্রের ধার বরাবর হেঁটে গেলে কিছুটা দূরেই পুরোনো দীঘা,যেন কিছুটা ঘিঞ্জি,তবে বিশ্ববাংলা পার্ক, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম দর্শনীয়।তবে নতুন দীঘাতেও অমরাবতী লেক,পার্ক,রোপওয়ে,বিজ্ঞানকেন্দ্র সহ বিনোদনের হরেক রকম ব্যাবস্থাও রয়েছে।আমরা বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর ফিরে এলাম হোটেলে, সেরে নিলাম প্রাতরাশ ততক্ষনে বাপি ঠিক করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি অটো ঘুরতে যাব মন্দারমনি, তাজপুর, শংকরপুর, মোহনা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। উঠে পড়লাম অটোতে
সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে ভোরবেলা সকলে মিলে পৌঁছে গেলাম নিউ দীঘার সমুদ্র সৈকতে।সমুদ্রের সফেন ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল তীরে,আমরা গিয়ে বসলাম কংক্রিটের পাঁচিলের উপর আকাশ হালকা মেঘাচ্ছন্ন সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য সেরকম হলো না, সূর্যদেব লুকোচুরি খেলতে শুরু করলেন আমাদের সাথে। কিছুক্ষণ পরে একটি ক্যারাটে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে শুরু করল তাদের কসরত সমুদ্রের হালকা হাওয়ায় মনটা ফুরফুরে লাগছিল, আর কচিকাঁচাদের ক্যারাটে-জুডোর অনুশীলন দেখতে মন্দ লাগছিলো না। অদূরে ঝাউবনের গাছগুলো আন্দোলিত করছে তাদের মস্তক।দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এর তত্ত্বাবধানে নিউ দীঘা কে সাজিয়ে তোলা হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে, বিনোদনের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। সমুদ্রের ধার বরাবর হেঁটে গেলে কিছুটা দূরেই পুরোনো দীঘা,যেন কিছুটা ঘিঞ্জি,তবে বিশ্ববাংলা পার্ক, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম দর্শনীয়।তবে নতুন দীঘাতেও অমরাবতী লেক,পার্ক,রোপওয়ে,বিজ্ঞানকেন্দ্র সহ বিনোদনের হরেক রকম ব্যাবস্থাও রয়েছে।আমরা বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর ফিরে এলাম হোটেলে, সেরে নিলাম প্রাতরাশ ততক্ষনে বাপি ঠিক করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি অটো ঘুরতে যাব মন্দারমনি, তাজপুর, শংকরপুর, মোহনা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। উঠে পড়লাম অটোতে
মন্দারমনি:-
প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার জার্নির পর পৌঁছে গেলাম মন্দারমনি। আমরা যদিও নিউ দীঘা থেকে মন্দারমনি গেলাম তবে কেউ যদি সরাসরি মন্দারমনি যেতে চান তাহলে কাঁথি স্টেশন থেকে অটো, টোটো বা অন্য যেকোনো গাড়ি নেওয়া যেতেই পারে। মন্দারমনি সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার মুখেই নব নির্মিত এক সুবিশাল মন্দির ও সারি সারি দোকান, সেগুলো অতিক্রম করে গেলাম সমুদ্রসৈকতে। হাজার লোকের ভিড় আর সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে সৈকতে। দূরে দেখা যাচ্ছে মাছ ধরার নৌকাগুলো যেন ঢেউয়ের সাথে লড়াইয়ে মেতে উঠেছে।আমরা যাওয়ার পরেই সমুদ্রের জল আস্তে আস্তে সরে যেতে লাগল সৈকত থেকে।জোয়ারের সময় উঠে আসা দোকানিরা পুনরায় সাজিয়ে বসলেন তাদের দোকানপাট। ভাঙা-গড়ার এই খেলা করতে করতে যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন ওরা। কত নিপুন হাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজিয়ে ফেললেন তাদের দোকান। আমরা সমুদ্র সৈকতে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। লক্ষণীয় বিষয় মন্দারমনি অনেকটা কোলাহলমুক্ত। সু বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত বেশকিছু বালিয়াড়িযুক্ত সুন্দর পরিবেশে সামুদ্রিক পাখিদের ঘোরাফেরা, সৈকতে লাল কাঁকড়ার আনাগোনা আপনাকে ভাবুক করে তুলবে। বিশেষত ভাটার সময় সমুদ্রের জল স্তর অনেকটা নেমে যাওয়ায় ঘোরাঘুরি করতে মন্দ লাগে না। মোটের ওপর পর্যটকদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় যারা একটু নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে। অসম্ভব ভালো লাগায় বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম আমরাও উপভোগ করলাম মন্দারমনি সৌন্দর্য আর তারপর ফিরে এলাম আমাদের গাড়িতে আবার যাত্রা শুরু করব অন্য কোথাও
তাজপুর:-
পিচের সরু রাস্তা ধরে ছুটে চলেছে আমাদের টোটো রাস্তার পাশে বিক্ষিপ্তভাবে ঝাউগাছ তবে দিঘার মত সেই ঝাউ জঙ্গল অন্য কোথাও দেখতে পেলাম না। মাঝেমধ্যে রাস্তার ধারে ধারে দেখতে পাচ্ছিলাম অজস্র কল্কে ফুলের গাছ। দেখতে দেখতে এক সময় পৌছে গেছি তাজপুরে কিছুটা নির্জন এই তাজপুরে বেশ কয়েক কিছু হাট বা খড়ের ছাউনি দিয়ে কুঁড়েঘর তৈরি হয়েছে।সমুদ্র সৈকতের একদম উপরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা এই স্থানগুলো সমুদ্র সৌন্দর্য উপভোগ করার উপযুক্ত স্থান। টুরিস্টরা সেখানে বসে আড্ডা দেয় খাওয়া-দাওয়া করে আর উপভোগ করে। অর্ডার মত খাবার দাবার পাওয়া যায়। লাল কাঁকড়া, ইলিশ, ভেটকি ও বিভিন্ন পানীয় পাওয়া যায় এখানে। তবে সমুদ্র সৈকত যেন কিছুটা নোংরা আর গভীর তাই এখানে সমুদ্র স্নানে দুঃসাহস না করাই ভালো তবে শহুরে কোলাহল থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটা দিন তাজপুর সমুদ্র সৈকতের ঝুলন্ত কুঁড়েঘরে খুব আরামেই কেটে যেতে পারে। আমরাও বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকলাম সমুদ্রের অপূর্ব শোভা দেখলাম যে যার মতো খাওয়াদাওয়া সারলাম আর তারপর আবার রওনা হলাম পরবর্তী গন্তব্যে।
শঙ্করপুর:-
চোখ জুড়ানো সুন্দর সমুদ্র সৈকত শংকরপুর, সমুদ্রের ধারে ছোটদের সুন্দর পার্ক আমাদের সঙ্গে থাকা ছোটরা খুব মজা করে ঘুরতে শুরু করলো। কংক্রিটের কচ্ছপ, অক্টোপাস আর বিশাল এক হাঙ্গরের মুখ সহ অন্যান্য সুদৃশ্য বস্তুগুলো আমাদেরও মন্দ লাগছিলো না। সকলে মিলে বেশ কিছু ছবিও তুলে ফেললাম। সঙ্গে থাকা ভাই সুদীপ্ত মুখার্জী আবার ছবি তোলার ব্যাপারে খুব সচেতন কোন সুযোগই সে হাতছাড়া করতে চায়না। সাজানো গোছানো শংকরপুর বেশ সুন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। চারিদিক মার্বেল পাথর দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে বসার জায়গাগুলো। যথেষ্ট নির্জনও বটে নিকটবর্তী এই স্থানটি,যারা সমুদ্র ভালোবাসেন তাদের ভালো লাগবেই এটুকু গ্যারান্টি দেওয়া যায় বেশ কিছু হোটেলও আছে নির্জনতা পছন্দ করলে একটা দিন অনায়াসে থাকা যেতে পারে। আমারও থাকতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু উপায় না থাকায় শংকরপুর কে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মোহনার উদ্দেশ্যে
মোহনা:-
শুকনো মাছের তীব্র গন্ধ যেন জানান দিয়ে দিল পৌঁছে গেছি কোন এক মাছের বাজাড়ে। মোহনা মাছের বাজার দীঘা এলাকার বিখ্যাত বাজার এই এলাকার অধিকাংশ মাছ রপ্তানি করা হয় এখান থেকে তবে অন্য দোকানদানি একটু যেন কম। গড়ে ওঠেনি সেরকম পর্যটন কেন্দ্র। তবে নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশে যারা একটু ঘুরতে পছন্দ করেন তাদের খুব ভালোই লাগবে নদীর মোহনা ও সমুদ্র সৈকত তার মাঝখান দিয়ে চলে গেছে এক কংক্রিটের রাস্তা শেষ হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এর কাছে। কিছুটা রাস্তার উপর ঘোরাঘুরি করলাম। কয়েকজন শখের মৎস্য শিকারী পাথরের উপর বসে সুদৃশ্য সাজ সরঞ্জামসহকারে মাছ শিকার করার চেষ্টায়। আমরা অর্থাৎ আমি সুকান্ত সেন্টু কৌশিক অশোক বালির উপর দৌড়াদৌড়ি শুরু করলাম মাঝেমধ্যে দেখতে পাচ্ছিলাম লাল লাল কাঁকড়া সকলে মিলে কাঁকড়ার পিছনে ধাওয়া করার প্রতিযোগীতায় মত্ত হলাম। কেউ কেউ দুটো একটা কাঁকড়া ধরেও ফেলল আবার পরক্ষণেই সেগুলোকে ছেড়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করলো না, তবে মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া শুকনো বালি উড়িয়ে চোখ মুখ ভরিয়ে দিচ্ছিল বেশ কিছুটা হেঁটে পৌঁছে গেলাম সমুদ্রের জলে। সমুদ্র স্নান না করলেও কিছুক্ষণ ঢেউয়ের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে রওনা হলাম ফেরার পথে এতক্ষণ পর্যন্ত যে সমস্ত স্থান ঘুরলাম, আমার কিন্তু সব থেকে ভালো লাগলো এই মোহনা।বালিয়াড়ি একদিকে নদীর মোহনা আর অপরদিকে সমুদ্রের ঢেউ, এক অপূর্ব সংমিশ্রণ এক বেলা কাটানোর জন্য এই স্থান অনেকটাই উপযুক্ত। তবে দীঘা থেকে দূরত্ব বেশি না হওয়ায় ওখান থেকে ভাড়া গাড়িতে এসে আবার তাতেই ফিরে যাওয়াটা ভালো তবে একটু সকাল সকাল এলে মাছের বাজারটাও দেখে যাওয়া যেতে পারে।নদী ও সমুদ্রের বিভিন্ন রকমের নাম না জানা মাছ দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।
আবার দীঘায় ফেরা:-
ওখান থেকে ফিরে এলাম আবার দীঘায়। নদীর ধারে ধারে সারিবদ্ধ ভাবে থাকা মাছ ধরার রং-বেরংয়ের ট্রলারগুলি নজর কাড়ার মতো। ভালোভাবে কাছ থেকে দেখলাম দীঘার মূল গেটটি অপূর্ব ডিজাইন মন ভরিয়ে দিল। ফিরে এলাম আমাদের হোটেলে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সকলে মিলে গেলাম সমুদ্রসৈকতে এবারের উদ্দেশ্য কিছুক্ষণ সমুদ্র স্নান করা। আমার অবশ্য সমুদ্রস্নান এই প্রথম, সমুদ্রে নেমে বড় বড় ঢেউ এর মোকাবিলা করা মন্দ লাগলো না সুমন,পলাশ,রথীনদা উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে বাচ্চাদের মতো খেলছিল। স্থানীয় ক্যামেরাম্যানের অনুরোধে কয়েকটা ছবি তুললাম। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের মানুষ প্রত্যেকে যেন মত এই সমুদ্রের জলে কেউবা স্পিড বোট আবার কেউবা বালিয়াড়িতে ঘোড়ার পিঠে ঘুরতে ব্যস্ত, আবার অনেকেই গলা ভিজিয়ে নিচ্ছেন ডাবের জলে।তবে দীঘার ডাবের নরম শাঁসও বেশ উপাদেয়। কিছুক্ষণ পর আমরা ভিজে জামা কাপড়েই ফিরে এলাম আমাদের হোটেলে।
রাত্রিকালীন আড্ডা:-
সন্ধ্যা হতে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই রইল না, তবে তাতে কি। আমাদের সঙ্গী অশোক শুরু করলো গানের আসর এমনিতে অশোকের গানের গলা বেশ ভালোই আর লোকগীতিটাও বেশ সুন্দর করে।কৌশিক, বাপি প্রত্যেকে যে যার মত মনোরঞ্জন করল সংগীত ও কবিতার মধ্য দিয়ে। ইতিমধ্যে বৃষ্টি কখন থেমে গেছে বুঝতেই পারিনি। আমি একা একা বেরোলাম রাস্তায় তবে প্রচন্ড প্রচন্ড বাতাস বইছে ঠিক যেন ঝড়। বেশ কিছুক্ষণ নিউ দিঘার বাজারে ঘোরাঘুরি করে ফিরে এলাম হোটেলে এরপর খাওয়া-দাওয়া করে সম্পূর্ণ বিশ্রাম। সবশেষে একটা কথা জানিয়ে দেওয়াই ভালো দীঘার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিন্তু অজস্র সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে দীঘা কে কেন্দ্র করে গাড়ি ভাড়া করে সেই সমস্ত জায়গা ঘুরে যাওয়া যায় অনায়াসে এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘুরে আসা যায় উড়িষ্যার তালসারির সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা, প্রাচীন চন্দনেশ্বর শিবমন্দির, উদয়পুর,মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র জুনপুট।
বিদায় দীঘা:-
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। গতকাল প্রচণ্ড বৃষ্টি হলেও দীঘার সমুদ্র সৈকতের ভীড় আজকেও কোন অংশে কম নয়।ক্যারাটে ছাত্রছাত্রীরা এসেছে রোজকার মতো। মুক্ত আকাশে হালকা মেঘ থাকায় সূর্যি মামা এখনো দেখা দিতে পারেনি। সমুদ্র সৈকত লাগোয়া বাজার থেকে বেশ কিছু শৌখিন সামগ্রী কিনলাম, সুকান্ত উপহার দিল এত সুন্দর শাঁখের কলম। দোকানদারটি খুব ছেলেমানুষ কথা বলে খুব ভালো লাগলো, খুব মিশুকে নামটিও সুন্দর- সৈকত বেরা। ফিরে এলাম হোটেলে ততক্ষণ আমাদের বাস এসে দাঁড়িয়েছে। প্রাতরাশ সেরে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট সিটে গিয়ে বসলাম জানলা দিয়ে একবার ফিরে দেখলাম সুন্দরী দীঘাকে। মনে মনে বললাম বিদায় দীঘা হয়তো আবার দেখা হবে কোন এক সময় কোন একদিন।
*কোলকাতা থেকে ১৮৭ কিমি দুরত্বের এই স্থানটি সরাসরি বাসে বা ট্রেনেও যাওয়া যায়।
**থাকার জন্য বিভিন্ন টুরিস্ট লজ আছে, সবকটি পর্যটন কেন্দ্রেই।তবে দীঘার কোনো লজে থেকে গাড়ি ভাড়া করে পার্শ্ববর্তী স্থানগুলো ঘুরে নেওয়াই ভালো।
***গোটা বছরই যাওয়া যেতে পারে তবে প্রচণ্ড গরম ও শীতের সময়টা বাদ দেওয়াই ভালো। সপ্তাহান্তে ভীড় হয় খুব বেশী।
Comments
Post a Comment