কামারপুকুরে ঠাকুরের আর্শীবাদ নিয়ে জয়রামবাটিতে মায়ের স্নেহস্পর্শলাভ
এমনিতেই বঙ্গবাসীরা একটু ঘুরতে পছন্দ করে তার উপর আমরা যারা বীমা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তাদের আবার অর্থবর্ষের প্রথম কয়েকটা মাস একটু হলেও চাপ কম থাকে। তাই ঠিক করলাম সকলে মিলে আবার একবার ঘুরে আসবো । ঠিক হয়ে গেল এবারের গন্তব্য হবে কামারপুকুর,জয়রামবাটি হয়ে দীঘা। পয়লা মে সকাল পাঁচটায় রওনা হলাম, নেতৃত্বে অন্য বারের মতোই আমাদের অভিভাবক নীলাচল দাস আমাদের শ্রদ্ধেয় কাকু এবারের দলটা একটু বড়সড় সুকান্ত, পলাশ, বাপী তো আছেই এবারে সঙ্গে যোগ দিয়েছে সপরিবারে দেবব্রতদা, সুমন্ত,তাপসদা,রথীনদা সহ বেশ কয়েকজন মোট প্রায় পঞ্চাশ জনের দল। যাই হোক সকাল সকাল রওনা হলাম, যাওয়ার পথে বোলপুরে একটু বিরতি। খাবার দাবারের দায়িত্বে থাকা শ্যামলদা দ্রুততার সঙ্গে চা তৈরি করে সকলের হাতে ধরিয়ে দিলেন, সঙ্গে বিস্কুট দিতেও ভুললেন না।আমি সংগ্রহ করলাম একটা আনন্দবাজার পত্রিকা। তারপর দীর্ঘ যাত্রাপথে শুধুমাত্র বাসের জানালা দিয়ে দেখা বঙ্গ প্রকৃতির সুন্দর রূপ আর মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে নেওয়া। এইভাবে একের পর এক গ্রাম শহর অতিক্রম করে কখন যে পৌঁছে গেছি আমাদের প্রথম গন্তব্যে তা বুঝতেই পারিনি।
**কামারপুকুর ছুঁয়ে জয়রামবাটী
কামারপুকুর পৌঁছে আমরা ঠিক করলাম একবার ঘুরে আসব জয়রামবাটি থেকে সেইমতো মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে পৌঁছে গেলাম জয়রামবাটি কিছুটা পদব্রজে সারদা মায়ের মন্দিরের মূল দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, কিন্তু মঠের মূল তোরনের সামনে কিছু দোকান এমনভাবে লাগানো হয়েছে,যাতে তোরনের সৌন্দর্যহানি হয়েছে অনেকখানি। ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম অপূর্ব সুন্দর মায়ের মন্দির। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের অক্ষয় তৃতীয়ার দিন এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। ভিতরে আছে প্রস্তর দ্বারা নির্মিত মায়ের মূর্তি ঠিক তার উল্টো দিকে পুন্যপুকুর যে পুকুরের জল মা স্বয়ং ব্যবহার করতেন। এখানে আছে সিংহবাহিনী মন্দির,কথিত আছে একবার সারদা মায়ের অসুখ করলে দেবী সিংহবাহিনীর অনুগ্রহে তিনি রোগ মুক্ত হন। সেই কারণে এই দেবীকে ভক্তি করেন এখানে আসা ভক্তরা। সেই সময়কার মন্দির ভেঙে পড়লে নতুন করে মন্দির তৈরি করা হয়। প্রত্যেক শনি মঙ্গলবার ভক্তরা আসেন পুজো দিতে। এছাড়াও দুর্গাপূজো কদিন ধুমধাম সহকারে পূজা হয়। তবে মূল মাতৃমন্দিরে বছরের বিভিন্ন সময়ে পূজা চলে। অগ্রহায়ন মাসের কৃষ্ণ সপ্তমী তিথিতে মায়ের জন্মতিথি উপলক্ষে বিশেষ পূজা হয় এছাড়া মন্দির প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। এই দুই মন্দির ছাড়াও মায়ের পুরাতন বাড়ি, নতুন বাড়ি, মায়ের ঘাট, ছেলেবেলার সঙ্গী ভানু পিসির বাড়ি, জগদ্ধাত্রী মন্দির গ্রামের দেবতা ধর্ম ঠাকুরের মন্দির প্রভৃতি স্থান দর্শনীয়। প্রতিদিন দু'বেলা মন্দির খোলা থাকলেও দুপুরের দিকটা বেশ কিছুক্ষন বন্ধ থাকে। মূল তোরনের এর পাশেই স্বল্পমূল্যে পুস্তক সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে।যদিও কিছু বেসরকারি টুরিস্ট লজ আছে তবে পূর্ব থেকে যোগাযোগ করলে মঠেও থাকার ব্যবস্থা হতে পারে এবং মন্দিরের প্রসাদও পাওয়া যায়।
**কামারপুকুরে ঠাকুরের জন্মস্থান দর্শন
মাতৃ মন্দির দর্শন সেরে আবার আমরা ফিরলাম কামারপুকুরে, এবার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ কামারপুকুর গ্রাম ঘুরে দেখা। যদিও জয়রামবাটি বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত কিন্তু কামারপুকুরের অবস্থান হুগলী জেলায়। আমরা ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের জন্ম ভিটের মঠের ভিতরে প্রবেশ করলাম দেখলাম ঠাকুরের জন্মভিটা, ঢেঁকিশালা। ঠাকুরের জন্মভিটেতেই প্রসাদ হিসেবে পেলাম এখানকার বিখ্যাত সাদা বোঁদে। দেখলাম ঠাকুরের বাসগৃহ সহ বেশ কয়েকটি পুরাতন মাটির ঘর যার প্রত্যেকটিই ঠাকুরের স্পর্শধন্য। রঘুবীরের মন্দির, শিব মন্দির দেখে আমরা গেলাম ভোজনালয়ে। যেকোনো স্থানে ভ্রমনে গেলে নীলাচল কাকু সুযোগ পেলে প্রসাদের ব্যবস্থা করতে ভোলেন না, তিনি এখানেও কুপন সংগ্রহ করে রেখেছিলেন সেটা দেখিয়ে প্রবেশ করলাম ভোজনের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে। অপূর্ব স্বাদের প্রসাদ ভক্ষণ করলাম ভক্তি ভরে, লক্ষ্য করলাম ক্ষীপ্রতার সঙ্গে পরিবেশন এবং সুষ্ঠভাবে সকলকে খাওয়ানো। তৃপ্তি সহকারে প্রসাদ গ্রহণের পর আরও একবার ঘুরে দেখলাম তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। উদ্দেশ্য বাকি কামারপুকুর গ্রামটা ঘুরে দেখা।
কামারপুকুর গ্রাম ভ্রমণ
বন্ধুবর বাপী কয়েকটি অটোরিকশা ঠিক করে রেখেছিল তার একটিতে উঠে বসলাম ও ঘুরতে শুরু করলাম কামারপুকুর গ্রাম। প্রথমে গিয়ে হাজির হলাম পাইনবাবুদের বাড়িতে সেখানে দেখলাম 'শ্রীরামকৃষ্ণ নাট্য স্মৃতিমঞ্চ' এখানে নাকি একসময় শিব সেজে অভিনয় করেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ। আর এই পাইনবাড়ির রমণীগণ ঠাকুর রামকৃষ্ণ কে ভগবান জ্ঞানে পূজা করতেন। এরপর হাজির হলাম লাহাবাবুদের বিষ্ণুমন্দিরে। কথিত আছে এখান থেকেই নাকি এক গুপ্ত সুরঙ্গ আছে যা শেষ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশ নন্দিনী উপন্যাসের পটভূমি মান্দারণ এলাকায়। কোন আক্রমন হলে যাতে এই সুরঙ্গ ধরেই চলে যেতে পারেন তার জন্য এই ব্যাবস্থা ছিল বলে মনে করা হয়। এরপর দেখলাম দূর্গা মন্ডপ এই মণ্ডপের মূর্তিতেই স্বয়ং রামকৃষ্ণ চক্ষু দান করেছিলেন। মণ্ডপের সামনে লাহা বাবুদের পাঠশালা যেখানে পড়াশোনা করতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। পুরনো দিনের খড়ের চালের পাঠশালার মধ্যে পুরনো দিনের বেশ কিছু ছবি আছে যা নজর কাড়ার মতো।কাছেই গোপেশ্বর শিব মন্দির ঠাকুরের দিব্যোন্মাদ অবস্থা থেকে নিরাময়ের জন্য তাঁর মাতৃদেবী এই মন্দিরে হত্যে দিতেন।এরপর স্বর্ণময়ীর শিব মন্দির,রাস মন্দির দেখে, গ্রামটির নাম কামারপুকুর যে পুকুরটির নাম অনুসারে, দেখা হলো সেটিও।যদিও সংস্কারের অভাবে পুকুরটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এই পুকুর দর্শন এর মাধ্যমেই শেষ করলাম রাম কৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুর ভ্রমণ।রামকৃষ্ণদেব ও সারদা মায়ের জন্মভিটা ভ্রমণ ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নিঃসন্দেহে এক বড় পাওনা। আর ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কামারপুকুর গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণের অসংখ্য স্মৃতি। ঠাকুর রামকৃষ্ণে ও মায়ের জন্মস্থান ভ্রমণ করলে মানসিক তৃপ্তি ও পাওয়া যায় অনেকখানি। কামারপুকুর মঠেও থাকার ব্যবস্থা আছে কিন্তু অবশ্যই পূর্ব থেকে যোগাযোগ করে নিতে হবে। আর ভোজন এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কুপন সংগ্রহ করতে হবে।
আবার যাত্রা শুরু
শেষ করলাম কামারপুকুর ও জয়রামবাটি ভ্রমণ রওনা দিলাম দীঘার উদ্দেশ্য,একই রকম ভাবে বাসের জানালা দিয়ে প্রকৃতির দৃশ্য অবলোকন করতে করতে। কিন্তু প্রকৃতির সুন্দর সবুজ রূপের মধ্যেও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যেন দেখতে পারছি পার্থেনিয়াম এর করাল থাবা, একইসঙ্গে রাস্তাঘাট গ্রাম শহর সর্বত্রই যন্ত্র সভ্যতার ছোঁয়া। রাস্তার ধারে ধারে যেন সবজায়গায় তার চিহ্ন। যাই হোক সবকিছু পিছনে ফেলে এগিয়ে চললাম নতুন স্থান এর উদ্দেশ্য।
*কোলকাতা থেকে সরাসরি বাস যায় দুটি স্থানেই।হাওড়া থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়।
**থাকার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি টুরিস্ট লজ আছে তাছাড়া দুটি স্থানে অবস্থিত মঠে পূর্ব থেকে যোগাযোগ করলে থাকা যেতে পারে।
***দুটি স্থানেই বছরভর বিভিন্ন অনুষ্ঠান লেগে থাকে, তবে জন্মতিথিগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে।
আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত
দেবাশিস পাল
নানুর
এমনিতেই বঙ্গবাসীরা একটু ঘুরতে পছন্দ করে তার উপর আমরা যারা বীমা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তাদের আবার অর্থবর্ষের প্রথম কয়েকটা মাস একটু হলেও চাপ কম থাকে। তাই ঠিক করলাম সকলে মিলে আবার একবার ঘুরে আসবো । ঠিক হয়ে গেল এবারের গন্তব্য হবে কামারপুকুর,জয়রামবাটি হয়ে দীঘা। পয়লা মে সকাল পাঁচটায় রওনা হলাম, নেতৃত্বে অন্য বারের মতোই আমাদের অভিভাবক নীলাচল দাস আমাদের শ্রদ্ধেয় কাকু এবারের দলটা একটু বড়সড় সুকান্ত, পলাশ, বাপী তো আছেই এবারে সঙ্গে যোগ দিয়েছে সপরিবারে দেবব্রতদা, সুমন্ত,তাপসদা,রথীনদা সহ বেশ কয়েকজন মোট প্রায় পঞ্চাশ জনের দল। যাই হোক সকাল সকাল রওনা হলাম, যাওয়ার পথে বোলপুরে একটু বিরতি। খাবার দাবারের দায়িত্বে থাকা শ্যামলদা দ্রুততার সঙ্গে চা তৈরি করে সকলের হাতে ধরিয়ে দিলেন, সঙ্গে বিস্কুট দিতেও ভুললেন না।আমি সংগ্রহ করলাম একটা আনন্দবাজার পত্রিকা। তারপর দীর্ঘ যাত্রাপথে শুধুমাত্র বাসের জানালা দিয়ে দেখা বঙ্গ প্রকৃতির সুন্দর রূপ আর মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে নেওয়া। এইভাবে একের পর এক গ্রাম শহর অতিক্রম করে কখন যে পৌঁছে গেছি আমাদের প্রথম গন্তব্যে তা বুঝতেই পারিনি।
**কামারপুকুর ছুঁয়ে জয়রামবাটী
কামারপুকুর পৌঁছে আমরা ঠিক করলাম একবার ঘুরে আসব জয়রামবাটি থেকে সেইমতো মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে পৌঁছে গেলাম জয়রামবাটি কিছুটা পদব্রজে সারদা মায়ের মন্দিরের মূল দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, কিন্তু মঠের মূল তোরনের সামনে কিছু দোকান এমনভাবে লাগানো হয়েছে,যাতে তোরনের সৌন্দর্যহানি হয়েছে অনেকখানি। ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম অপূর্ব সুন্দর মায়ের মন্দির। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের অক্ষয় তৃতীয়ার দিন এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। ভিতরে আছে প্রস্তর দ্বারা নির্মিত মায়ের মূর্তি ঠিক তার উল্টো দিকে পুন্যপুকুর যে পুকুরের জল মা স্বয়ং ব্যবহার করতেন। এখানে আছে সিংহবাহিনী মন্দির,কথিত আছে একবার সারদা মায়ের অসুখ করলে দেবী সিংহবাহিনীর অনুগ্রহে তিনি রোগ মুক্ত হন। সেই কারণে এই দেবীকে ভক্তি করেন এখানে আসা ভক্তরা। সেই সময়কার মন্দির ভেঙে পড়লে নতুন করে মন্দির তৈরি করা হয়। প্রত্যেক শনি মঙ্গলবার ভক্তরা আসেন পুজো দিতে। এছাড়াও দুর্গাপূজো কদিন ধুমধাম সহকারে পূজা হয়। তবে মূল মাতৃমন্দিরে বছরের বিভিন্ন সময়ে পূজা চলে। অগ্রহায়ন মাসের কৃষ্ণ সপ্তমী তিথিতে মায়ের জন্মতিথি উপলক্ষে বিশেষ পূজা হয় এছাড়া মন্দির প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। এই দুই মন্দির ছাড়াও মায়ের পুরাতন বাড়ি, নতুন বাড়ি, মায়ের ঘাট, ছেলেবেলার সঙ্গী ভানু পিসির বাড়ি, জগদ্ধাত্রী মন্দির গ্রামের দেবতা ধর্ম ঠাকুরের মন্দির প্রভৃতি স্থান দর্শনীয়। প্রতিদিন দু'বেলা মন্দির খোলা থাকলেও দুপুরের দিকটা বেশ কিছুক্ষন বন্ধ থাকে। মূল তোরনের এর পাশেই স্বল্পমূল্যে পুস্তক সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে।যদিও কিছু বেসরকারি টুরিস্ট লজ আছে তবে পূর্ব থেকে যোগাযোগ করলে মঠেও থাকার ব্যবস্থা হতে পারে এবং মন্দিরের প্রসাদও পাওয়া যায়।
**কামারপুকুরে ঠাকুরের জন্মস্থান দর্শন
মাতৃ মন্দির দর্শন সেরে আবার আমরা ফিরলাম কামারপুকুরে, এবার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ কামারপুকুর গ্রাম ঘুরে দেখা। যদিও জয়রামবাটি বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত কিন্তু কামারপুকুরের অবস্থান হুগলী জেলায়। আমরা ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের জন্ম ভিটের মঠের ভিতরে প্রবেশ করলাম দেখলাম ঠাকুরের জন্মভিটা, ঢেঁকিশালা। ঠাকুরের জন্মভিটেতেই প্রসাদ হিসেবে পেলাম এখানকার বিখ্যাত সাদা বোঁদে। দেখলাম ঠাকুরের বাসগৃহ সহ বেশ কয়েকটি পুরাতন মাটির ঘর যার প্রত্যেকটিই ঠাকুরের স্পর্শধন্য। রঘুবীরের মন্দির, শিব মন্দির দেখে আমরা গেলাম ভোজনালয়ে। যেকোনো স্থানে ভ্রমনে গেলে নীলাচল কাকু সুযোগ পেলে প্রসাদের ব্যবস্থা করতে ভোলেন না, তিনি এখানেও কুপন সংগ্রহ করে রেখেছিলেন সেটা দেখিয়ে প্রবেশ করলাম ভোজনের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে। অপূর্ব স্বাদের প্রসাদ ভক্ষণ করলাম ভক্তি ভরে, লক্ষ্য করলাম ক্ষীপ্রতার সঙ্গে পরিবেশন এবং সুষ্ঠভাবে সকলকে খাওয়ানো। তৃপ্তি সহকারে প্রসাদ গ্রহণের পর আরও একবার ঘুরে দেখলাম তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। উদ্দেশ্য বাকি কামারপুকুর গ্রামটা ঘুরে দেখা।
কামারপুকুর গ্রাম ভ্রমণ
বন্ধুবর বাপী কয়েকটি অটোরিকশা ঠিক করে রেখেছিল তার একটিতে উঠে বসলাম ও ঘুরতে শুরু করলাম কামারপুকুর গ্রাম। প্রথমে গিয়ে হাজির হলাম পাইনবাবুদের বাড়িতে সেখানে দেখলাম 'শ্রীরামকৃষ্ণ নাট্য স্মৃতিমঞ্চ' এখানে নাকি একসময় শিব সেজে অভিনয় করেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ। আর এই পাইনবাড়ির রমণীগণ ঠাকুর রামকৃষ্ণ কে ভগবান জ্ঞানে পূজা করতেন। এরপর হাজির হলাম লাহাবাবুদের বিষ্ণুমন্দিরে। কথিত আছে এখান থেকেই নাকি এক গুপ্ত সুরঙ্গ আছে যা শেষ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশ নন্দিনী উপন্যাসের পটভূমি মান্দারণ এলাকায়। কোন আক্রমন হলে যাতে এই সুরঙ্গ ধরেই চলে যেতে পারেন তার জন্য এই ব্যাবস্থা ছিল বলে মনে করা হয়। এরপর দেখলাম দূর্গা মন্ডপ এই মণ্ডপের মূর্তিতেই স্বয়ং রামকৃষ্ণ চক্ষু দান করেছিলেন। মণ্ডপের সামনে লাহা বাবুদের পাঠশালা যেখানে পড়াশোনা করতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। পুরনো দিনের খড়ের চালের পাঠশালার মধ্যে পুরনো দিনের বেশ কিছু ছবি আছে যা নজর কাড়ার মতো।কাছেই গোপেশ্বর শিব মন্দির ঠাকুরের দিব্যোন্মাদ অবস্থা থেকে নিরাময়ের জন্য তাঁর মাতৃদেবী এই মন্দিরে হত্যে দিতেন।এরপর স্বর্ণময়ীর শিব মন্দির,রাস মন্দির দেখে, গ্রামটির নাম কামারপুকুর যে পুকুরটির নাম অনুসারে, দেখা হলো সেটিও।যদিও সংস্কারের অভাবে পুকুরটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এই পুকুর দর্শন এর মাধ্যমেই শেষ করলাম রাম কৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুর ভ্রমণ।রামকৃষ্ণদেব ও সারদা মায়ের জন্মভিটা ভ্রমণ ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নিঃসন্দেহে এক বড় পাওনা। আর ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কামারপুকুর গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণের অসংখ্য স্মৃতি। ঠাকুর রামকৃষ্ণে ও মায়ের জন্মস্থান ভ্রমণ করলে মানসিক তৃপ্তি ও পাওয়া যায় অনেকখানি। কামারপুকুর মঠেও থাকার ব্যবস্থা আছে কিন্তু অবশ্যই পূর্ব থেকে যোগাযোগ করে নিতে হবে। আর ভোজন এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কুপন সংগ্রহ করতে হবে।
আবার যাত্রা শুরু
শেষ করলাম কামারপুকুর ও জয়রামবাটি ভ্রমণ রওনা দিলাম দীঘার উদ্দেশ্য,একই রকম ভাবে বাসের জানালা দিয়ে প্রকৃতির দৃশ্য অবলোকন করতে করতে। কিন্তু প্রকৃতির সুন্দর সবুজ রূপের মধ্যেও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যেন দেখতে পারছি পার্থেনিয়াম এর করাল থাবা, একইসঙ্গে রাস্তাঘাট গ্রাম শহর সর্বত্রই যন্ত্র সভ্যতার ছোঁয়া। রাস্তার ধারে ধারে যেন সবজায়গায় তার চিহ্ন। যাই হোক সবকিছু পিছনে ফেলে এগিয়ে চললাম নতুন স্থান এর উদ্দেশ্য।
*কোলকাতা থেকে সরাসরি বাস যায় দুটি স্থানেই।হাওড়া থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়।
**থাকার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি টুরিস্ট লজ আছে তাছাড়া দুটি স্থানে অবস্থিত মঠে পূর্ব থেকে যোগাযোগ করলে থাকা যেতে পারে।
***দুটি স্থানেই বছরভর বিভিন্ন অনুষ্ঠান লেগে থাকে, তবে জন্মতিথিগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে।
আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত
দেবাশিস পাল
নানুর
Comments
Post a Comment